নেট এসেট ভ্যালু (NAV) কি?
NAV হল নেট সম্পদ মূল্য। একটি শেয়ারের প্রকৃত দাম কত হওয়া উচিত তা NAV ধারনা দেয়। একটি কোম্পানির শেয়ার প্রতি কতো টাকার সম্পদ আছে তা জানতে পারবেন NAV দেখে। NAV যেভাবে হিসাব করা হয়ঃ NAV = (মোট সম্পদের মূল্য – মোট দায়বদ্ধতা) ÷ মোট শেয়ারের সংখ্যা দায়বদ্ধতা বলতে বুঝায় কোম্পানিটি কতটুকু ঋনি বা কি পরিমাণ ঋন রয়েছে। উদাহরণস্বরুপ, একটি কোম্পানির মোট সপমত্তির মূল্য ১০০০০০ টাকা। কোম্পানিটির ঋনের পরিমান ২০০০০ টাকা এবং কোম্পানিটির বর্তমানে ১০০০ টি শেয়ার রয়েছে। তাহলে NAV হবে, (১০০০০০ – ২০০০০) ÷ ১০০০ = ৮০ টাকা ।
পিই অনুপাত (P/E) কি?
পিই বা ইংলিশে Price/Earning. সাধারণত, কোন একটি শেয়ারের বর্তমান দাম ও শেয়ার প্রতি আয়( ইপিএস) এর অনুপাতকে পিই রেশিও বলে। কোন একটি কোম্পানির শেয়ারের ঝুঁকি মূল্যায়ন করার প্রধান এবং জনপ্রিয় টুলস হচ্ছে পিই অনুপাত। “ইপিএস” দ্বারা “প্রতিটি শেয়ারের বর্তমান মূল্য” ভাগ করার মাধ্যমে পিই হিসাব করা হয়। উদাহরণস্বরুপঃ একটি শেয়ারের বর্তমান দাম যদি ১০০ টাকা হয় এবং লাস্ট ১২ মাসে শেয়ারটির ইপিএস যদি ৫ টাকা হয় তাহলে, সেই শেয়ারটির পিই অনুপাত হবেঃ ১০০ ÷ ৫ = ২০
ইপিএস (EPS) কি ?
EPS / ইপিএস শেয়ার কেনা-বেচার সিদ্ধান্তে যে টার্মটি সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে দেখা হয় এটি তার মধ্যে অন্যতম। যে কোনও নির্ধারিত সময়ে একটি কোম্পানি শেয়ারপ্রতি কেমন লাভ-লস করছে তার হিসেব এটি, আপনার বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত বা ঝুঁকিপূর্ণ সেটার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিবে ইপিএস। EPS ইপিএস কথার অর্থ হচ্ছে Earning per share বা শেয়ার প্রতি আয় । একটি কোম্পানির মোট লাভের (বা ক্ষতির) অঙ্ককে যদি তার বাজারে থাকা মোট শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয় তাহলে EPS পাওয়া যায়। ধরা যাক, ২০২০ সালে সব খরচ বাদ দেওয়ার পরে কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ১ কোটি টাকা। ওই কোম্পানির মোট শেয়ার রয়েছে ১০ লাখ। তাতে ২০২০ সাল শেষে কোম্পানির ইপিএস দাঁড়াবে ১০ টাকা। প্রত্যেক কোম্পানি বছরে ৪টি কোয়ার্টারে ইপিএস দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০ সালে BRACBANK এর প্রথম ৩ মাসে (Q1) EPS ছিল ০.৭১ । এর পরের ৩ মাসে (Q2) EPS ছিল ০.২৪ । তাহলে ৩+৩=৬ মাসে(Half Yearly) ০.৭১ + ০.২৪ = ০.৯৫ । সেপ্টেম্বর মাস শেষে (Q3) EPS ছিল ১.১৩ । তাহলে, ৩+৩+৩=৯ মাসে ০.৯৫ + ১.১৩ = ২.০১ । এখানে পুরা বছরের EPS টা এখনো আসে নি। তবুও আমরা ধারণা করে বের করতে পারি এই কোম্পানির পুরো বছরের EPS কত হতে পারে। যেহেতু ৯ মাসে EPS ২.০১ , সুতরাং ৩ মাসে গড় EPS হবে ২.০১ ÷ ৩= ০.৬৭ । অর্থ্যাৎ শেষের কোয়ার্টারে বা ২০২০ এর ৩১ ডিসেম্বর শেষে EPS আসবে ২.০১ + ০.৬৭= ২.৬৮ । এটা একটা গড় হিসাব। কিন্তু দেখা যায় আসল হিসেবেও খুব বেশি হেরফের হয় না। যদি না কোম্পানি খুব বেশি লাভ বা লস করে। তাই ৬/৯ মাসের EPS জানলে খুব সহজেই আমরা সারা বছরের ই পি এস বের করতে পারি যা শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের এপস এ যেই EPS দেয়া থাকে সেটা গড়/এনুয়ালাইজড EPS। EPS এর ডানপাশে ছোট “?” চিহ্নে ক্লিক করলে EPS টি কোন কোয়ার্টারের উপর নির্ভর করে বের করা হয়েছে তা জানতে পারবেন। ইপিএসটা জানা কেন জরুরি? আপনার হাতে যে কোম্পানির শেয়ার আছে, তার বিপরীতে ওই কোম্পানির আয় কেমন, তা জানাটা আপনার জন্য অবশ্যই জরুরি। ইপিএসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও। সেই পিই রেশিওর ভিত্তিতে শেয়ারের বিপরীতে ঋণপ্রাপ্তি নির্ভর করে।
