কিভাবে আপনি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবেন?

কিভাবে আপনি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবেন?

শেয়ার বাজারে ব্যবসা করতে চাইলে প্রথমেই একজন ব্যক্তি কে বিও ( Beneficiary Owner’s ) একাউন্ট খুলতে হবে। এই একাউন্টটি ব্যাংক একাউন্ট এর মতো। এটি খুলতে হবে ব্রোকার হাউজে।

ব্রোকার হাউজ: ব্রোকার হাউজ হলো কিছু লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান যারা শেয়ার বাজারে সাধারন বিনিয়োগকারীদের জন্য কাজ করে থাকেন। কারন শেয়ার বাজারে সরাসরি শেয়ার কেনা বেচা করা যায়না। এজন্য ব্রোকার দরকার হয়। নির্দিষ্ট সময়ে ব্রোকারদের ব্রোকারেজ চার্জ দিতে হয়।

ব্রোকার হাউজে একাউন্ট খোলার পর সেখান থেকে একটা ব্রোকার নাম্বার ও বিও একাউন্ট নাম্বার দিবে। এই ব্রোকার নাম্বার ও একাউন্ট নাম্বার দিয়েই শেয়ার কেনা বেচা হয়ে থাকে। বিনিয়োগ কারী তখন প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি উভয় শেয়ারই ক্রয় করতে পারবেন। একাউন্ট একক হতে পারে আবার যৌথ একাউন্ট ও হতে পারে।

বিও অ্যাকাউন্ট কি ?

বাংলাদেশে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য আপনার একটি ব্রোকার হাউজে একটি BO (Beneficiary Owner’s) অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। একটি বিও অ্যাকাউন্ট একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো, তবে এটি আপনি একটি ব্রোকার হাউজে (যেমন মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেড) এ খুলবেন । আপনি আপনার BO অ্যাকাউন্টে ব্যাংক একাউন্টের মতোই অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারবেন । তবে এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন আমানত সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

সাধারনত দুই ধরনের বিও একাউন্ট রয়েছে:

১. সাধারন বিও একাউন্ট-বাংলাদেশী অধিবাসী এবং বাংলাদেশে বসবাস করে এমন ব্যক্তি সাধারন বিও একাউন্ট খুলতে পারে।

সাধারন বিও একাউন্ট আবার তিন ধরনের-

  • একক মালিকানাধীন বিও একাউন্ট(বিনিয়োগকারী নিজের নামে বিও একাউন্ট খুলতে পাড়বে)
  • যৌথ মালিকানাধীন বিও একাউন্ট(দুই জন ব্যক্তি সম্মিলিত ভাবে একটি বিও একাউন্ট খুলতে পাড়বে)
  • বিনিয়োগোকারী চাইলে নিজের কোম্পানির নামে বিও একাউন্ট খুলতে পারবেন।

২. এনআরবি বিও একাউন্ট (নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশী)- বাংলাদেশী প্রবাসীদের এবং বিদেশী নাগরিকদের বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা সুবিধা দেয়ার জন্য এই ধরনের বিও একাউন্ট খোলা হয়ে থাকে।

এছাড়াও অন্য এক ধরনের একাউন্ট রয়েছে যা লিংক বিও একাউন্ট নামে পরিচিত। আপনার বর্তমান ব্রোকারেজ হাউজ থেকে কোন শেয়ার বিক্রি না করে লিংক বিও একাউন্টের মাধ্যমে অন্য হাউজে বিও একাউন্ট ট্রান্সফার করতে পারবেন।

 

একক বি.ও অ্যাকাউন্ট (Individual BO Account) করার জন্য :

১। আবেদনকারীর ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি

২। জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি

৩। ব্যাংক একাউন্ট এর চেক বইয়ের পাতার ফটোকপি

৪। নমিনীর ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি (একজন নমিনী নিযুক্ত করতে হবে)

৫। বি.ও একাউন্ট করার চার্জ বাবদ ব্রোকার ভেদে ৪৫০-১০০০ নগদ টাকা।

যৌথ বি.ও একাউন্ট ( Joint B.O Account) করার জন্য :

১। দ্বিতীয় আবেদনকারীর ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি

২। জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি

বিদেশী (নন রেসিডেন্স) নাগরিক এর ক্ষেত্রে

 ১। আবেদন কারীর 2 কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি

২। জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড/রেসিডেন্স পারমিট ইত্যাদির সত্যায়িত কপি

৩। ফরেন কারেন্সী ব্যাংক হিসাবের তথ্য

৪। NRB হিসাবে আয় এর তথ্য বিবরনী বা সেলারি/ইনকাম বিবরনী

৫। নমিনি জাতীয় পরিচয়পত্র কপি ও ছবি

৬। হিসাব পরিচালনার জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অথরাইজ করে POA (Power of Attorney) প্রতয্যনপত্রের কপি(যদি প্রয়োজন হয়)

প্রাথমিক বিনিয়োগঃ

বি.ও অ্যাকাউন্ট করার পর অ্যাকাউন্টে টাকা ডিপোজিট করে আপনি শেয়ার মার্কেটে শেয়ার ক্রয়বিক্রয়- ও প্রাইমারী শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সাধারণত প্রাইমারী শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ফ্যাস ভ্যালু এবং লট এর উপর নির্ভর করে যা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারণ হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, একটি লটের পরিমান যদি ৫০০ হয় এবং ফ্যাস ভ্যালু যদি ১০ টাকা করে হয় তবে বিনিয়োগের পরিমান হবে ৫০০০ টাকা মাত্র।

সেকেন্ডারি শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারী চাইলে যেকোন পরিমাণ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করতে পারবেন।এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে বিনিয়োগকারীর ইচ্ছা ও সামর্থ্যের উপর।

সেকেন্ডারি শেয়ার ক্রয় করার আগে সেই কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল (Earning Per Share, Price Earning Ratio, Reserve, Net Operating Cash Flow Per Share etc.) ও টেকনিক্যাল (RSI, Volume etc.) এনালাইসিস, ম্যানেজমেন্ট এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে নিতে হবে। পুঁজি,সময় এবং জ্ঞানের সমন্বয়ে বিনিয়োগ করা ভাল এবং পুঁজিবাজারে সবসময় উদ্বৃত্ব বা অলস টাকা বিনিয়োগ করা সমুচিত ।

 

শেয়ার সাধারনত দুই ধরনের হয়ে থাকে।

  • প্রাইমারি শেয়ার
  • সেকেন্ডারি শেয়ার

প্রাইমারি শেয়ারে কোন লস থাকে না। তবে সেকেন্ডারি শেয়ারে রিস্ক থাকে।